রম্য লেখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রম্য লেখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ভ্যাঁ দিবস


[একটি সাধু-চলিত মিশ্রিত ব্যর্থ রম্য প্রয়াস]

গুণীজনেরা কহেন, “ভালবাসা ভাল নহে, ইহা দেহ এবং মন উভয়ের জন্য পীড়াদায়ক।” মনের জন্যে পীড়াদায়ক বুঝিলাম, কিন্তু দেহের জন্য কিভাবে? যেই বালক মনের আকুলবিকুল ভালবাসা প্রকাশ করিতে গিয়া স্বীয় কপোলে পঞ্চ অঙ্গুলীর ছাপ নিয়া ফিরিয়াছে ইহা কেবলমাত্র সেই বুঝিবে এবং মর্মে মর্মে অনুধাবন করিবে। তাহার পরেও মনুষ্য প্রজাতি ভালবাসিয়া যায় এবং বাসিতে বাসিতে অর্থ-সম্পদ সমস্তকিছু হাস্যমুখে বিসর্জন দেয়। এক্ষেত্রে পুরুষের যায় অর্থ আর নারীর যায় সম্পদ। উভয়েই সব হারাইয়া আবার নতুন করিয়া বাঁচিয়া উঠে। কিন্তু নিতান্তই আফসোসের বিষয়, এই নতুন জীবনে দেহ-মন সবকিছুই তাহারা পায় শুধু আর ‘মজা’ পায় না।


আমার বউ আর আমার ফুটবল খেলা


ফুটবল খেলা আমার বউ এবং আমার দুজনের খুব পছন্দ। খেলাধূলাপ্রেমী মেয়ে আগে তেমন একটা দেখা যেত না। আজকাল মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। তারা ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে রেসলিং পর্যন্ত বুঝতে শিখেছে। অবস্থা এমন যে সুযোগ পেলে ঘরে – বাইরে খেলতে শুরু করে দেয়।

ভাল কথা। খেলাধূলায় আমার কোন না নাই, বরং মাত্রাতিরিক্ত উৎসাহ। সমস্যা অন্যখানে। এবং গুরুতর সমস্যা। আগে জানলে বিয়েই করতাম না, ধুরো। বউ আমার কট্টর ব্রাজিল সমর্থক। আর আমি জন্ম থেকে আর্জেন্টিনা। এবার বাছাই পর্বে আমার করুন দশা দেখে বউ বলে, “আহারে আমার সোনা, বুকে আসো।” মেজাজ কেমন লাগে!


দুঃখবিলাসী


কিছু কিছু মানুষ থাকে দুঃখবিলাসী টাইপের। তারা দুঃখকে মনের ভেতর সযতনে লালন করে। চেহারায় সবসময় একটা দুঃখী দুঃখী ভাব ফুটিয়ে তোলে আর কারো সাথে কোন কথা হলে বলে, “আমার না খুব মন খারাপ।” :(( রেডিও জকিরা যেন এদের অপেক্ষাতে বসে থাকে সারাক্ষন আর চান্স পেলেই বাজিয়ে দেয় বাপ্পাদার গাওয়া দুঃখবিলাসীদের জাতীয় সঙ্গীত, “আজ তোমার মন খারাপ মেয়ে, তুমি আনমনে বসে আছ, আকাশপানে দৃষ্টি উদাস … … ”:D

আত্মহত্যা করার ফ্যান্টাসী তাদের মধ্যে দেখা যায়। মাঝেমধ্যেই বলে, “কিচ্ছু ভাল্লাগেনা। আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না। কবে জানি সুইসাইড করি।” :|| /:)

দুঃখবিলাসীরা রাত জাগে আর দুপুরবেলায় বেঘোরে ঘুমোয়। নিশুতি রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলে, “ইস্‌ কত রাত ঘুমাইনা!!” ইন্সমনিয়ায় ভোগে। তবে ঘুমের ঔষধ খায় না, ঔষধে বড্ড ভেজাল। :-*

ভীষন সাহসী হয় তারা। রাতদুপুরে একলা একলা হাঁটে কিংবা ছাদের রেলিং এ উঠে বসে থাকে। ;) নিজের সাথে কথা বলে। জাগতিক সব ব্যাপারেই হতাশাচ্ছন্ন। কি যেন নেই, কিসের যেন অভাব।

আপনি ভাবতে পারেন, ছ্যাঁকা খাইছে এইজন্যে মনে এত দুঃখ। ঘটনা কিন্তু পুরো উলটো। এরা বরং ছ্যাঁকা দিতে ওস্তাদ। একেকটা প্রেম আসে আর সে মহা উৎসাহে ছ্যাঁকা দেয়। তারপর লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদে আর ভাবে, ইহা আমি কি করিলাম!! :P:P

আর্থিক সমস্যার কারনে মন খারাপ। পুরো ভুয়া কথা। কোটিপতিদের কোন গুনধর পুত্রকে হয়ত দেখবেন অজানা কোন দুঃখে নেশার পথে গিয়েছে। অন্যদিকে যে ছেলেটা দিনভর টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ জোগায় আবার রাত জেগে পড়ে, দুঃখ নিয়ে ভাবাভাবি করার তার সময় কই? |-)

স্টুডেন্ট হলে মনে করতে পারেন, রেজাল্ট খারাপ। মন কেমনে ভাল থাকবে? চাকরী-বাকরী কেমনে হবে এই ভেবে কষ্ট পাচ্ছে। এই কারনে আমার নিজেরো মন খারাপ থাকে। তখন ফেইসবুকে উদ্ভট কুইজ খেলে, মুভি দেখে কিংবা লেখালেখি করে মন ভাল করার চেষ্টা করি। সেইসময়টা পড়াশুনা করলে কিংবা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিলে যে আরো ভাল হয় সেটা আমাকে কে বোঝাবে? /:)

বলতে পারেন, মেয়েটি হয়ত কালো। তাই এত কষ্ট। আসলে কিন্তু সেটা না। সমীক্ষায় দেখা গেছে, সুন্দরীরা বেশীমাত্রায় দুঃখবিলাসী। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে আর এটাসেটা ভেবে মন খারাপ করে, আমার মুখটা ফোলাফোলা লাগছে কেন? বুড়োবুড়ো লাগছে কেন?? মুটিয়ে গেলাম নাকি??? :(( :(( :(( কেউ তাদের জন্য ফিদা হলে ভাব দেখায় আবার না হলেও মুখ বাঁকিয়ে বসে থাকে। সবসময় একটা ভাবজ ধরে রাখতে গিয়ে শুধু শুধু কষ্ট পায়।

আসলে দুঃখবিলাসীতা এক ধরনের রোগ। এই রোগের সমাধান কি? আমার মতে, মেয়ে হলে যত তাড়াতাড়ি পারা যায় বিয়ে দেয়াটাই ভাল। কখন যে এরা কি করে ফেলে তার নাই ঠিক। দরকার হলে বাচ্চাকাচ্চা সহ গ্রাজুয়েশন শেষ করবে। নো প্রবস্‌। B-)

আর দুঃখবিলাসী ছেলে হলে আর তার বয়স পঁচিশোর্ধ হলে একই চিকিৎসা অর্থাৎ শুভস্য শীঘ্রম। :P তবে পুত্রের বয়স পঁচিশের নিচে হলে তাকে ঘাড় ধরে বের করে দিতে হবে, “যা ব্যাটা চড়ে খা।” X(( মাথার উপর ছাঁদ না থাকলে আর পকেটে পয়সা না থাকলে দুঃখ দুঃখ ভাব কোন খান দিয়ে যে পালাবে!!!

সত্যিকারের দুঃখী মানুষেরা লেখাটি সিরিয়াসলি নিবেন না আশা করি। :P

কলেজ প্রেম



মাইয়া পড়ে V.N.C তে, পোলায় নটরডেমে –
হঠাৎ করেই পরলো তারা দুজন দুজনার প্রেমে।

পরিচয় হয় নটরডেমেই, কোন এক ক্লাব প্রোগ্রামে –
সুন্দরী মেয়ে দেখে ছেলেটি আলাপ করে নেয় চামে।
মেয়েটির পিছনে ঘুরে ঘুরে গোল্লায় যায় ছেলেটির কুইজ,
ঘন্টার পর ঘন্টা চলে কথা, নো টেনশন আছে ডিজুইস।


এ যুগের মেয়েদের (বিশেষ করে V.N.C দের) নেই কোন বিশ্বাস;
বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ করেই দিয়ে দেবে একটা বাঁশ।
তখন কী হবে – এই ভেবে ছেলেটি ঠিক করে রাখে কিছু Backup
মেয়েটির অভাব না হয় এদের দিয়েই করবে Makeup।

ছেলেটির বন্ধুরাও (মানে আমরা) কম যায় না, ধরে নানা বায়না –
“দোস্ত, তোর আজকের ডেটিংটায় আমরা গেলে হয় না ?”
আজ আমেরিকান বার্গার, কাল হেলভেশিয়া – ছেলেটি পুরাই ধরা
তবু গার্লফ্রেন্ডকে একটু কাছে পেতে যেতেই হয় স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরা

সুন্দরী মেয়েটিকে পাড়ার বড় ভাইয়েরা দেয় পাহারা –
অন্যপাড়ার ছেলে তার পিছনে ঘুর ঘুর করলে পালটে দেয় চেহারা।

হঠাৎ একদিন স্বপ্নপুরী থেকে আসে মেয়েটির খালাতো ভাই,
সুন্দরী মেয়েটিকে দেখে বলে, “চলো তোমায় ম্যারিকা নিয়ে যাই”।

মেয়েটির খোঁজে ওদের পাড়ায় গিয়ে ছেলেটি খায় একদিন রামধোলাই –
জ্ঞান ফেরার পর দেখে সামনের দিকের দুটো দাঁত নাই !
দাঁতের শোঁকে চুল ছিড়ে বলে – “হতচ্ছাড়া প্রেম তোমাকে Goodbye ”।

[কলেজ লাইফে লেখা]

ন্যাড়া বেলতলায় দুবার

সময়- নিশুতি রাত
লোকেশন- বেলতলা
দৃশ্য- একজোড়া যুবক-যুবতীর একান্ত প্রেমালাপ





- আকাশ নদী চন্দ্র তারা
সাক্ষী সবাই রবে
বলো প্রিয়া আজকে রাতে
তুমি আমার হবে

- আমায় ফেলে তুমি যখন
উড়াল দিয়ে যাবে
চাঁদ কি তখন নেমে এসে
সাক্ষী দিয়ে যাবে

- ছিঃ আমায় তুমি এমন ভাবো
লজ্জায় যাই মরে
তাকিয়ে দেখো তারাগুলো কেমন
হাসছে মিটমিট করে
ইচ্ছে হচ্ছে গলায় দিয়ে দড়ি
এখনি সুইসাইড করি

- তোমার মিস্টি কথায় ভুলে
দেব না কোনো ছাড়
পুরুষ মানুষে বিশ্বাস করে
ঠকবো না আমি আবার

- তার মানে অভিজ্ঞতা
হয়ে গেছে তোমার
সত্যি করে বলো
এই নিয়ে কতবার

- তা কি আর আমি গুনে রেখেছি
চেহারাও অনেকের ভুলে গেছি
তবে তোমাকে কেমন যেন –
খুব চেনা চেনা লাগছে আমার
কাজীর কাছে চলো
পালাবার পথ পাবে না এবার

চাচা কাহিনী

আমার দাদা খুব কড়া টাইপের মানুষ ছিলেন, দাদী সারাক্ষন ভয়ে তটস্থ থাকতেন। বড়চাচা তার মাকে গিয়ে বলেন,

“মা তোমার এত কষ্ট আমি তো আর সইতে পারি না।”

দাদী পুত্রের মনের কথা বুঝতে পারেন, পুত্র বিবাহ করতে চায়। তিনি বলেন,

“বাবা, তুই তো চাকরী-বাকরী কিছু করলি না। এখন ব্যবসা-বানিজ্য কিছু কর। নাইলে বিয়ে করাই ক্যামতে?”


“মা, আপনে খালি কিছু পয়সা দেন আমারে। দেখবেন কয়দিনের মধ্যেই বস্তায় বস্তায় টাকা আইনা আপনার পায়ের কাছে ফালামু।”

দাদী সেই জামানায় পয়সা পাবেন কই? তিনি তার অতি আদরের পুত্রকে কিছু সোনাদানা দিলেন। বড়চাচা সত্যি সত্যি রাতারাতি আদম ব্যবসা করে ভালো টাকা বানালেন, বিয়ে করে বউ নিয়ে শহরে স্থায়ী হলেন। নবাবী কায়দায় চলাফেরা শুরু করলেন। নামকরা লোকজনের সাথে তার ওঠাবসা, চেহারাও মাশাল্লা ভাল। কবরীর বিপরীতে সিনেমার অফার পেয়ে গেলেন, শুধু সিনেমা বানানোর কিছু খরচ চাচাকে দিতে হবে এই যা। কি কারনে জানি পরে আর চাচার হিরো হওয়া হয়নি, তবে হিরো হাবভাবে চলাফেরা চলতে থাকল। কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যবসায় মার খেয়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসলো। দাদীর দুঃখ-কষ্টের কোন গতি হল না।

বড়চাচার অর্থকড়ি কমে গেলেও আরাম আয়েশে কোন কমতি হলনা, বরং আরো জেঁকে বসল। স্থানীয় কলেজে লাইব্রেরীয়ান এর দায়িত্ব নিলেন, শুয়ে বসে যে চাকরী করা যায়। তবে একটা ব্যাপারে পরিবর্তন আসল। বেশ ধার্মিক হয়ে গেলেন তিনি। সকাল দশটায় ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সেরে প্রতিদিন ফযরের নামাজ আদায় করেন এবং এ সিস্টেমে কোন সমস্যা নেই বলেও সবাইকে জ্ঞানদান করেন।

বড়চাচা নিজেকে বেশ বুদ্ধিমান লোক বলে মনে করেন। তিনি তার ছেলেমেয়েদের সবসময় বলেন, “আমি তোদের টাকা-পয়সা ধন-সম্পদ তেমন কিছুই দিতে পারবনা। তবে আমি তোদের ভাল ভাল বুদ্ধি দিতে পারব।”

একবার তার বুদ্ধির খেসারত দিতে হল বাবাকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবা ছিলেন ক্লাশ নাইনের ছাত্র। যুদ্ধ শেষে ১৯৭২ সালে চাচার হঠাৎ ধারনা হল দেশের সব ভাল ভাল চাকরী সবাই পেয়ে যাচ্ছে। তাই তার ছোটভাইকে উপদেশ দিলেন সেবারেই মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে দিতে। কারন তাড়াতাড়ি পড়াশোনা শেষ না করলে দেশে কোন চাকরী আর বাকী থাকবে না। বড়ভাইয়ের কথা শুনতে গিয়ে বাবা খারাপ রেজাল্ট করে বসলেন। এখনো সুযোগ পেলেই বাবা সেই আফসোস করেন।

খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে চাচার খ্যাতি দারুন, এই প্রায় ষাট বছর বয়সে তিনি আমাদের মত দু-তিনজন ইয়াং যুবকদের চেয়ে বেশী খেতে পারেন। কুরবানীর ঈদের পরদিন দুপুরে পারিবারিক আড্ডায় হঠাৎ বললেন, “আজ সকালে খাসীর পায়া দিয়ে যে নাস্তাটা করলাম এত সুস্বাদু হইসে যে কি আর বলবো! বেহেস্তেও এই খাবার পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।”

ড্রিঙ্কসের উপর তার মারাত্মক টান, একসময় অনেক রকমের পানীয় খেয়েছেন বলেই হয়ত। এখন সেভেন-আপ দিয়ে চাহিদা মেটাতে হয়, একদিন আমাকে দিয়ে টাইগার এনার্জি ড্রিংক আনিয়ে খেলেন, বললেন,

“শরীরটা তো আগে ঠিক রাখতে হবে, কি বলিস?”