বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের জীবন সম্পর্কিত ধ্যানধারণা অনেক বদলে যায়। এই যেমন স্কুলে পড়ার সময় চিন্তার সীমারেখাটা ছোট থাকে, ক্লাসে রোল প্রথম দিকে থাকলে অথবা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মেডেল পাওয়া সামনের জীবনে যে সফলতার নিশ্চয়তা দেয় না, এটা বোঝার ক্ষমতা স্কুলবালকের থাকে না। তারপর সেই বুয়েট-মেডিকেলে চান্স পাওয়া এমনকি নর্থ আমেরিকার পিএইচডি ডিগ্রীও ঠিক যেন সাফল্য নয়! একজন সাধারণ ছাত্র পরিনত বয়সে অনেক অসাধারণ কিছু হয়ত করতেই পারে, এজন্য সেই বিখ্যাত ডায়লগ আছে – বইয়ের কভার দেখে বই কে মূল্যায়ন করো না।
এই গল্প ভরা রাতে, কিছু স্বপ্ন মাখা নীল নীল হাতে, বেপরোয়া কিছু উচ্ছ্বাস নিয়ে, অপেক্ষায় ...
আমার ডায়েরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আমার ডায়েরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
লাইফ অফ লকডাউন
রকমারী :
আমার ডায়েরী
করোনা-বন্দী জীবন শেষ হলে আমি মায়ের কাছে যাব। মায়ের হাতে রান্না লাল শাক আর গরুর মাংস ভুনা দিয়ে ভাত খাব। এই ঈদে বাড়ী যাবার কথা ছিল, জানি সম্ভব না। হয়ত পরের ঈদে বাবার সাথে আবার নামাজে যাব। আমার ভাই কে নিয়ে বুফে খেতে যাব, কোনদিন যাওয়া হয় নাই এক সাথে। নিতান্তই স্বাভাবিক কিছু চাহিদা আমার জন্য এখন অনেকটা অসম্ভব ব্যাপার মনে হচ্ছে। প্রিজন ব্রেক বা শশাঙ্ক রেডেম্পশন মুভির মত অবিশ্বাস্য কিছু করে অর্জন করতে হবে এমন একটা অবস্থা।
কে জানে দেশে গেলে প্রবাসী হিসেবে ধাওয়া খেতে হতে পারে, আত্মীয়-স্বজনের কাছে যাওয়া যাবে না, এমনকি মানুষ বাড়ী ছাড়াও করতে পারে – এটাই এখন স্বাভাবিক ঘটনা। কোন বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা করা যাবে না, কিছু অবিবেচকের জন্য প্রবাসীদের যে নবাবজাদা ইমেজ পাবলিকের মনে গেঁথে বসেছে, করোনা পরবর্তী যুগে সেই রেশ থেকে যাবে। মানুষজন বেফাঁস বলে ফেলতে পারে – আরে মিয়া আপনাদের জন্যই আজকে এই দুর্দশা দিন দেখতে হল, ঐ ইহুদী নাসারাদের দেশ থেকে বেঁচে ফিরলেন কেমনে?
অন্ধকার সময়
রকমারী :
আমার ডায়েরী
এক মাস আগে সিঙ্গাপুর করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অরেঞ্জ লেভেলে গিয়েছে যেটা রেড জোন / লকডাউনের আগের ধাপ, তখন আক্ৰান্ত সংখ্যা ছিল ৩৩ জন আর এখন ২১২ জন৷ সিঙ্গাপুর এখনো অরেঞ্জ লেভেলে আছে। যারা সম্ভব হোম অফিস করে, কেউ সাপ্তাহিক রোটেশন করে, কেউ টীম দুইটা লোকেশনে ভাগ করে দিয়েছে, বাকীরা নরমাল অফিস করে, স্কুল-কলেজ সব খোলা।
সারা বিশ্বে গ্রোসারি ফাঁকা, টিস্যু ক্রাইসিস, স্যানিটাইজার বিজনেস - এগুলো এক মাস আগে আমরা সিঙ্গাপুরে দেখেছি, সরকার এই অবস্থা কন্ট্রোল করেছে এক সপ্তাহে। এখন ফেয়ারপ্রাইস (সিঙ্গাপুরের ওয়ালমার্ট ভার্সন) সারি সারি টিস্যু, বিভিন্ন ব্রান্ডের স্যানিটাইজার মানে চয়েজ করার অপশন পর্যন্ত আছে।
ফেইসবুক বিহীন দিনরাত্রী
রকমারী :
আমার ডায়েরী
এমন একটা জগৎ কল্পনা করা যাক, যেখানে ফেইসবুক নাই। কী হবে? কোন সমস্যা হবে কি?
হ্যাঁ, শুধু ফেইসবুক
না, এর বিকল্প হতে পারত এমন কোন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট পৃথিবীতে নাই ধরে নেই। মানুষ
কি চলতে পারবে না? সময় কাটবে না?
ফ্লাইওভার, রেললাইন কিংবা চিকেন গ্রিল
রকমারী :
আমার ডায়েরী
জোছনা ধোঁয়া এক ভর সন্ধ্যা বেলায় হাঁটতে বের হলাম। আমার বাড়ীর কাছেই
রেললাইন। লাইন ধরে হাঁটা। তেমন অসুবিধা হয় না। চারদিকে আলোয় ভুবন ভরা। আমি
অপেক্ষা করছি। প্রথম ট্রেনটা কোনদিক দিয়ে আসবে। আমার পিছন দিক দিয়ে না
সামনের দিক দিয়ে। আমার ধারনা, পিছন দিক দিয়ে আসবে। শত্রুগুলো কখনো সামনে
দিয়ে আসেনা। ওরা অতর্কিত আসে, সাহস ওদের এত বেশী না যে সামনে দিয়ে আসবে।
যেই কথা সেই কাজ। ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল। আমার পিছনে আলোর ঝলকানি আস্তে
আস্তে বাড়ে। শব্দ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। কেমন যেন নেশা নেশা লাগে। আমি
অপেক্ষা করি, অপেক্ষা করি। পৃথিবীটা মায়াময় লাগে। রূপালী চাঁদ উপর থেকে
মুচকি আসে। কিন্তু ওটাকে দেখে আচমকা ক্ষুধা মাথা চারা দিয়ে উঠল। নান রুটি
আর চিকেন গ্রিল হাত উঠিয়ে ডাকতে থাকে। সোজা রেললাইন ছেড়ে চেনা হোটেলের পথ
ধরি। আগে পেট ঠান্ডা তারপর আবজাব।
এইটা তোমার গল্প
রকমারী :
আমার ডায়েরী
ভোরবেলা যখন মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে এত কষ্ট লাগে। উফ আবার সকাল! তারপর
সেই রোজকার বেঁচে থাকা। গোসল নাস্তা সারতে সারতে ঘড়ির কাঁটা আটটা ছাড়ায়।
তুমি দৌড়ে নামো সিড়ি দিয়ে। গলি পেড়িয়ে মোড়ে দুইটা রিকশা দেখা যায়। আয়েশ করে
মামারা বসে আছেন।
মামা যাবেন? কই যাইবেন? মালিবাগ মোড়। না ঐদিক যামু না।
কোন দিক যাবেন। একটু নামায় দিয়া আসেন না মামা। বিশ টাকা দেই।
পাঁচ টাকা বেশী দেয়ার পরেও অনেক অনিচ্ছাসত্তে রিকশাওয়ালা রিকশা টানতে শুরু করে। সকাল বেলার হাল্কা বাতাস তোমার গায়ে লাগে। তুমি ভাবতে থাকো আজকের দিনটা কেমন যাবে। কি কি মেইল জমা হয়েছে আজ ইনবক্সে। মালিবাগ পৌছার ঠিক আগ দিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়।
মামা পাটি আছে? উনি মাথা নাড়েন। ভিজতেই ভিজতেই কোনমতে রিকশা থেকে গন্তব্যে নেমে একটা দোকানের সামনে আশ্রয় খোঁজো তুমি। সেখানে নানান রকমের মানুষ। জোড়েসোরে বৃষ্টি শুরু হয় এবার। তোমার ভাল লাগে না, একদমই না। কখন এই অযাচিত বৃষ্টি থামবে আর অফিস পৌছাঁবে তাই নিয়ে দুশ্চিন্তা। এমন সময় রিকশা থেকে নেমে সাদা ড্রেস পরা এক মেয়ে ছুটে এসে তোমার পাশে দাঁড়ায়। খানিকক্ষনের জন্য সব ভুলে যাও। একসাথে নিশ্চুপ বৃষ্টি দেখতে হঠাত মন্দ লাগে না। একটু একটু করে বৃষ্টির বেগ কমে আসে, আশেপাশের লোকজনের তাড়া অনেক বেশী। তারা এর মাঝেই ভিজতে ভিজতে নেমে যায় কাজে। পাশের মেয়েটি একসময় একবারের জন্য ও তোমার দিকে না ফিরে রাস্তা পেড়িয়ে চলে যায় অজানার দিকে। তারপর বৃষ্টি আরো কমলে বাস কাউন্টারে গিয়ে তুমি পরবর্তী যুদ্ধে নেমে পড়ো।
এই পার্টটা সবথেকে বিরক্তিকর। ৬ নম্বর বাসের গেটে এক্টুখানি ঝুলার জায়গা পাবার জন্য মানুষজনের প্রানান্তকর লড়াই। সেখানে বৃথা সময় নষ্ট না করে অন্যদিকে চেষ্টা করা। কিন্তু বলাকার হেল্পার মামারা সিটিং সিটিং বলে প্রচন্ড ভাব দেখিয়ে তোমার সামনে দিয়ে চলে যাবে। শত অনুরোধ করেও তাদের মন গলাতে পারবে না। পুলিশ মামাদের আবার বেশ আরাম। তারা যেকোন বাসে ফ্রিতে চড়ে বসতে পারে। হতাশ ব্যর্থ হয়ে একমাত্র কাউন্টার বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকো। বেশ অনেকক্ষন পর বাস আসে। ভাগ্য ভাল হলে অবশেষে দাঁড়ানোর জায়গাটুকু মেলে।
বাসের সিটে যেসব ভাগ্যবান লোকজন বসে আছেন তাদের অনেকের হাতে দেখা যায় “বাংলাদেশ প্রতিদিন”। কেউ কেউ বলে এর কাটতি নাকি প্রথম আলোকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনটাকায় সব টাটকা খবর। কারো কারো হাতে “আমাদের সময়”, কেউ আবার পড়ে “অপরাধ কন্ঠ”। কি বাহারী নাম পত্রিকার, অপরাধ তার আবার কন্ঠ! আজব ব্যাপার হলো বাংলাদেশ প্রতিদিনে হরতালের খবর সবার আগে আসে। আর স্ক্যান্ডাল আর আজেবাজে মুখরোচক খবর এগুলোতেই বেশী আসে। দুই/তিন টাকায় মানুষজন বাসের সময়টুকু ভুলে থাকে। তুমি হ্যান্ডেলে বাদুড় ঝোলা ঝুলতে থাকো। বৃষ্টি থেমে রোদ উঠে গেছে শহরে। জ্যামের কথা নতুন করে কিছু বলার নেই। মালিবাগ-মগবাজার পার হওয়া, সে অনেক খানি পথ। এই সময়ে তুমি অন্যকিছু ভাবতে পারো।
ভার্সিটি লাইফের কথা মনে পড়ে। এখন ক্লাসে থাকার কথা। বোর্ডের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত লিখে ভরে ফেলেছেন স্যার। সেই সাথে চলছে দুর্বোদ্ধ লেকচার। মাঝের দিকের জানালার পাশের বেঞ্চে বসে তুমি আকাশ দেখো আর বিশাল গাছটা। তোমার ঠিক উল্টোপাশের বেঞ্চে কর্নারে বসেছে দীঘল কালো চুলখোলা মেয়েটি। সে মন দিয়ে লেকচার তুলতে থাকে আর তুমি মন দিয়ে তাকে দেখো। বাসের ঝাকুনিতে অথবা পাশে দাঁড়ানো লোকের গুঁতোতে তোমার ধ্যান ভাংগে। আবার পৃথিবীতে ফিরে এসে দেখতে পাও রোজকার গিয়ানজাম। সেই মহিলা সিট ক্যাচাল, সিটিং ভাড়া অথবা ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ক্যাচাল ইত্যাদি ইত্যাদি।
মহাখালী ফ্লাইওভার গিয়ে একটা সিট মিলে যায়। আয়েশ করে বসার পর বড় বড় বিলবোর্ডে চোখ যায়। সেখানে সারিকা/শখ কে দেখতে মন্দ লাগে না। রঙ্গীন রঙ্গীন স্বপ্ন কল্পনা তোমার মনে যে আসে সেটা মিথ্যা না। প্রভাবীয় গন্ডগোলে একটু স্তিমিত হয়ে গেছে আরকি। গন্তব্য এসে পড়ে। তুমি বাম পা আগে বাড়িয়ে কাকলীতে নেমে পড়ো, ছুটতে থাকো কর্মযুদ্ধে।
চায়ের কাপে চুমুক দেয়ার আগে সিরিজ অফ মেইল চোখে পড়ে। সেইসব এক পাশে সরিয়ে ফেসবুকে লগিন, কোন নোটিফিকেশন আছে কি? বেশী না, চারটা নোটিফিকেশন। রাতে যে স্ট্যাটাস দিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলে সেখানে লাইক পড়েছে তিনটা আর কমেন্ট মোটে একটা। ন্যাকামি কমেন্ট তোমার ভাল লাগে না, তারপরেও কি আর করা! সৌজন্যবোধের কারনে উত্তর দিতে হয়। আজাইরা একটা গ্রুপে কেউ এড করেছে, ত্যক্ত হয়ে রিমোভ করতে হয়। আজ ও কোন আকাংখিত মেসেজ আসেনি, বরং অচেনা কেউ পোক করে যাচ্ছে নিরন্তর। হেডফোন কানে লাগিয়ে তুমি হোম পেইজে মনোযোগ দাও। সেখানে দেশ ও দশ উদ্ধার করে ফেলেছে লোকজন। পাঁচমিশালী লিংক ক্লিক ফ্লিক করে অবশেষে তুমি শুরু কর কর্মজজ্ঞ। কিছুক্ষণ চাকুরী করা যাক!
কাজের ফাঁকে ফাঁকে কলিগদের বাহারী রিংটোন বেজে ওঠে। কারো বউ ফোন করে, কারো শ্যালিকা কিংবা গার্লফ্রেন্ড। তুমি নিরীহ মানুষ, সচরাচর ফোন টোন আসে না। কালেভদ্রে যা আসে তা অচেনা নাম্বার থেকে ইন্টারভিউয়ের কল! কোন সুরেলা কন্ঠ হয়ত বলে ওঠে, অমুক দিন অমুক সময় আপনার একটা ভাইভা আছে। আপনি কি আসতে পারবেন? তুমি কোনরকমে হ্যা হু করে ফোন রেখে দাও, পাছে বর্তমান জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা অন্তত টিকে থাকে।
সময় চলে যায়। সূর্যাস্তের আরো ঘন্টা দুয়েক পরে ক্লান্ত অবসন্ন শরীরে মেলে মুক্তি। ঘরে ফেরা যাক! আবার সেই যুদ্ধ। তুমি যোদ্ধা, বিজয় আসবেই।
মামা যাবেন? কই যাইবেন? মালিবাগ মোড়। না ঐদিক যামু না।
কোন দিক যাবেন। একটু নামায় দিয়া আসেন না মামা। বিশ টাকা দেই।
পাঁচ টাকা বেশী দেয়ার পরেও অনেক অনিচ্ছাসত্তে রিকশাওয়ালা রিকশা টানতে শুরু করে। সকাল বেলার হাল্কা বাতাস তোমার গায়ে লাগে। তুমি ভাবতে থাকো আজকের দিনটা কেমন যাবে। কি কি মেইল জমা হয়েছে আজ ইনবক্সে। মালিবাগ পৌছার ঠিক আগ দিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়।
মামা পাটি আছে? উনি মাথা নাড়েন। ভিজতেই ভিজতেই কোনমতে রিকশা থেকে গন্তব্যে নেমে একটা দোকানের সামনে আশ্রয় খোঁজো তুমি। সেখানে নানান রকমের মানুষ। জোড়েসোরে বৃষ্টি শুরু হয় এবার। তোমার ভাল লাগে না, একদমই না। কখন এই অযাচিত বৃষ্টি থামবে আর অফিস পৌছাঁবে তাই নিয়ে দুশ্চিন্তা। এমন সময় রিকশা থেকে নেমে সাদা ড্রেস পরা এক মেয়ে ছুটে এসে তোমার পাশে দাঁড়ায়। খানিকক্ষনের জন্য সব ভুলে যাও। একসাথে নিশ্চুপ বৃষ্টি দেখতে হঠাত মন্দ লাগে না। একটু একটু করে বৃষ্টির বেগ কমে আসে, আশেপাশের লোকজনের তাড়া অনেক বেশী। তারা এর মাঝেই ভিজতে ভিজতে নেমে যায় কাজে। পাশের মেয়েটি একসময় একবারের জন্য ও তোমার দিকে না ফিরে রাস্তা পেড়িয়ে চলে যায় অজানার দিকে। তারপর বৃষ্টি আরো কমলে বাস কাউন্টারে গিয়ে তুমি পরবর্তী যুদ্ধে নেমে পড়ো।
এই পার্টটা সবথেকে বিরক্তিকর। ৬ নম্বর বাসের গেটে এক্টুখানি ঝুলার জায়গা পাবার জন্য মানুষজনের প্রানান্তকর লড়াই। সেখানে বৃথা সময় নষ্ট না করে অন্যদিকে চেষ্টা করা। কিন্তু বলাকার হেল্পার মামারা সিটিং সিটিং বলে প্রচন্ড ভাব দেখিয়ে তোমার সামনে দিয়ে চলে যাবে। শত অনুরোধ করেও তাদের মন গলাতে পারবে না। পুলিশ মামাদের আবার বেশ আরাম। তারা যেকোন বাসে ফ্রিতে চড়ে বসতে পারে। হতাশ ব্যর্থ হয়ে একমাত্র কাউন্টার বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকো। বেশ অনেকক্ষন পর বাস আসে। ভাগ্য ভাল হলে অবশেষে দাঁড়ানোর জায়গাটুকু মেলে।
বাসের সিটে যেসব ভাগ্যবান লোকজন বসে আছেন তাদের অনেকের হাতে দেখা যায় “বাংলাদেশ প্রতিদিন”। কেউ কেউ বলে এর কাটতি নাকি প্রথম আলোকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনটাকায় সব টাটকা খবর। কারো কারো হাতে “আমাদের সময়”, কেউ আবার পড়ে “অপরাধ কন্ঠ”। কি বাহারী নাম পত্রিকার, অপরাধ তার আবার কন্ঠ! আজব ব্যাপার হলো বাংলাদেশ প্রতিদিনে হরতালের খবর সবার আগে আসে। আর স্ক্যান্ডাল আর আজেবাজে মুখরোচক খবর এগুলোতেই বেশী আসে। দুই/তিন টাকায় মানুষজন বাসের সময়টুকু ভুলে থাকে। তুমি হ্যান্ডেলে বাদুড় ঝোলা ঝুলতে থাকো। বৃষ্টি থেমে রোদ উঠে গেছে শহরে। জ্যামের কথা নতুন করে কিছু বলার নেই। মালিবাগ-মগবাজার পার হওয়া, সে অনেক খানি পথ। এই সময়ে তুমি অন্যকিছু ভাবতে পারো।
ভার্সিটি লাইফের কথা মনে পড়ে। এখন ক্লাসে থাকার কথা। বোর্ডের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত লিখে ভরে ফেলেছেন স্যার। সেই সাথে চলছে দুর্বোদ্ধ লেকচার। মাঝের দিকের জানালার পাশের বেঞ্চে বসে তুমি আকাশ দেখো আর বিশাল গাছটা। তোমার ঠিক উল্টোপাশের বেঞ্চে কর্নারে বসেছে দীঘল কালো চুলখোলা মেয়েটি। সে মন দিয়ে লেকচার তুলতে থাকে আর তুমি মন দিয়ে তাকে দেখো। বাসের ঝাকুনিতে অথবা পাশে দাঁড়ানো লোকের গুঁতোতে তোমার ধ্যান ভাংগে। আবার পৃথিবীতে ফিরে এসে দেখতে পাও রোজকার গিয়ানজাম। সেই মহিলা সিট ক্যাচাল, সিটিং ভাড়া অথবা ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ক্যাচাল ইত্যাদি ইত্যাদি।
মহাখালী ফ্লাইওভার গিয়ে একটা সিট মিলে যায়। আয়েশ করে বসার পর বড় বড় বিলবোর্ডে চোখ যায়। সেখানে সারিকা/শখ কে দেখতে মন্দ লাগে না। রঙ্গীন রঙ্গীন স্বপ্ন কল্পনা তোমার মনে যে আসে সেটা মিথ্যা না। প্রভাবীয় গন্ডগোলে একটু স্তিমিত হয়ে গেছে আরকি। গন্তব্য এসে পড়ে। তুমি বাম পা আগে বাড়িয়ে কাকলীতে নেমে পড়ো, ছুটতে থাকো কর্মযুদ্ধে।
চায়ের কাপে চুমুক দেয়ার আগে সিরিজ অফ মেইল চোখে পড়ে। সেইসব এক পাশে সরিয়ে ফেসবুকে লগিন, কোন নোটিফিকেশন আছে কি? বেশী না, চারটা নোটিফিকেশন। রাতে যে স্ট্যাটাস দিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলে সেখানে লাইক পড়েছে তিনটা আর কমেন্ট মোটে একটা। ন্যাকামি কমেন্ট তোমার ভাল লাগে না, তারপরেও কি আর করা! সৌজন্যবোধের কারনে উত্তর দিতে হয়। আজাইরা একটা গ্রুপে কেউ এড করেছে, ত্যক্ত হয়ে রিমোভ করতে হয়। আজ ও কোন আকাংখিত মেসেজ আসেনি, বরং অচেনা কেউ পোক করে যাচ্ছে নিরন্তর। হেডফোন কানে লাগিয়ে তুমি হোম পেইজে মনোযোগ দাও। সেখানে দেশ ও দশ উদ্ধার করে ফেলেছে লোকজন। পাঁচমিশালী লিংক ক্লিক ফ্লিক করে অবশেষে তুমি শুরু কর কর্মজজ্ঞ। কিছুক্ষণ চাকুরী করা যাক!
কাজের ফাঁকে ফাঁকে কলিগদের বাহারী রিংটোন বেজে ওঠে। কারো বউ ফোন করে, কারো শ্যালিকা কিংবা গার্লফ্রেন্ড। তুমি নিরীহ মানুষ, সচরাচর ফোন টোন আসে না। কালেভদ্রে যা আসে তা অচেনা নাম্বার থেকে ইন্টারভিউয়ের কল! কোন সুরেলা কন্ঠ হয়ত বলে ওঠে, অমুক দিন অমুক সময় আপনার একটা ভাইভা আছে। আপনি কি আসতে পারবেন? তুমি কোনরকমে হ্যা হু করে ফোন রেখে দাও, পাছে বর্তমান জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা অন্তত টিকে থাকে।
সময় চলে যায়। সূর্যাস্তের আরো ঘন্টা দুয়েক পরে ক্লান্ত অবসন্ন শরীরে মেলে মুক্তি। ঘরে ফেরা যাক! আবার সেই যুদ্ধ। তুমি যোদ্ধা, বিজয় আসবেই।
এক টুকরো গোধূলি
রকমারী :
আমার ডায়েরী
আধশোয়া হয়ে আমি আকাশ দেখি। সেখানে মেঘে মেঘে অনেক বেলা। বিকেল হলেও মনে হচ্ছে প্রায় সন্ধ্যা। আমার ঘুম পায়। অন্যদিন হলে দেখা যায় ঘুম আসে না, আজ ঠিক করেছি বাইরে যাবো। আলসেমি আমাকে ছাড়ে না। আমার দক্ষিণের বারান্দায় গিয়ে আরো ভাল করে আকাশ দেখি। নাহ, বৃষ্টি হবে না।
ঝিলপাড়ে হাঁটতে হাঁটতে রিকশা খুঁজি। এখানে অনেক মানুষ। বেশীরভাগ আন্টি পিচ্চিকাচ্চা সমেত। কোন তরুণী নিদেনপক্ষে কিশোরী দেখতে পাই না। তারা অনেক ব্যস্ত। বালকের দল আজকাল ক্রিকেট বাদ দিয়ে ফুটবল ধরেছে। এটা আশার কথা না হতাশার জানি না। আমাদের এখানে অভিজাত লেক প্লাস পার্ক নেই। একটা ময়লাফেলা আটকেপড়া পানির ঝিলকে লেক বানিয়ে, পাশের একটুখানি চওড়া রাস্তাকে পার্ক বানিয়ে এলাকাবাসী বিকেলবেলার মেলা বসিয়েছে।
রিকশায় যেতে যেতে হারানো দিনের কথা মনে পড়ে। আমার টিউশনিকাল সম্ভবত শেষ হয়েছে। এমন ঝিমিয়ে পড়া বিকেলে আমি থাকতাম শিক্ষক বেশে, টেবিলের ওপাশে কোন কৌতুহলী অথবা নির্বিকার শিক্ষার্থী। বলবিদ্যার অংকগুলো কিংবা ইন্টিগ্রেশনের সূত্রগুলো কি ভুলেই গেলাম! ভুলে গেলে তেমন চিন্তার কিছু নাই। নোটখাতা গুলো এখনো ফেলে দেইনি। ওগুলোকে খুব মায়া লাগে।
শান্তিনগরের টুইন টাওয়ারের সামনে ব্যাপক ভীড়। মানুষের কী খেয়ে দেয়ে কাজ নাই নাকি? সারাবছর ধরে শপিং করে! আজকে অবশ্য শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্বামীকে পথ ভুলিয়ে বউয়েরা আসতেই পারে, আমি আসবো দেখে তারা নিশ্চয় ঘরে বসে থাকবে না। আমি নিজে কিছু কিনতে বের হলাম মনে হয় ছয় মাস পর। চাকরীর শুরুতে অনেক কিনতে হয়েছিল। ফর্মাল ড্রেস আমার বলতে গেলে কিছুই ছিল না। প্রথমদিন অফিস করার পরে ম্যাডাম সুন্দর করে বুঝিয়ে বললেন, টি-শার্ট আর জিন্স পরা যাবে না। আজকে কেনাকাটার তেমন দরকার ছিল না। তবু বের হবার পিছনে আমার লোডশেডিং থিংকিং এর হালকা অবদান আছে।
একদিন রাতে কম্পুর সামনে বসে ছিলাম। বরাবরের মতন কারেন্ট চলে গেল। এ আর নতুন কী! চেয়ার ছেড়ে বিছানায় কাত হই। নষ্ট চার্জারের টিমটিমে আলোয় কোনকাজ করা যায় না। পেপার পড়া, গল্পের বই পড়া, লেখালেখি কিচ্ছু না। ওহ, একটা কাজ করা যায়। চোখ বন্ধ করে বা খুলে ভাবনা-চিন্তা করা যায়। দেশ-দুনিয়া, আমি-তুমি, অতীত-ভবিষ্যৎ, ইহকাল-পরকাল সব নিয়ে ভাবা যায়। প্রতিরাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে আমি ভাবতে বসি। কয়েকটা এপ্লিকেশন বানানোর আইডিয়া আসে, দুয়েকটা সিরিজ লিখতে মন চায়। বাস্তবায়ন করার ধার ধারি না। আমি ভাবতে থাকি। এই ভাবনার নাম দিয়েছি “লোডশেডিং থিংকিং”।
ঐ রাতে ভাবতেছিলাম। হঠাৎ মনে হল, আমার সময় কাটে না, একঘেয়ে জীবন আর ভাল লাগে না – এর একটা বিহিত করা দরকার। ভাল লাগবে না কেন? ভাল লাগাইতে হবে। কি করা যায়! প্রতিদিন ভোরে উঠে গোসল-নাস্তা-দৌড়। অফিসে বসে কাজ থাকলে কাজ। না থাকলে ফেইসবুকিং-ব্লগিং-ফেইসবুকিং-ব্লগিং। কত আর পারা যায়! আট/নয় ঘন্টা পর ছুটি হলে বাসায় ফিরে সেই একই বৃত্তে আটকে পড়া। লাইফে কোনো বৈচিত্র্য নাই। বৈচিত্র্য আনতে হবে। অফিসের পাঁচদিন না হয় বাদ দিলাম। সন্ধ্যার পরে এনার্জি তেমন থাকে না। ঐ সময় মুভি দেখে, বই পড়ে কাটায় দিতে হবে। কিন্তু আল্লায় দিলে আমার এখন অনেক অবসর। ছুটির দুইদিন ঝিমাইতে ঝিমাইতে ক্লান্ত হয়ে যাই।
আমি সোশ্যাল না। আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ঈদ, দাওয়াত ছাড়া পারতপক্ষে যাই না। আড্ডাগুলোতে সতর্কভাবে দূরত্ব বজায় রাখি। স্বাভাবিকভাবে বন্ধুর সংখ্যা হাতেগোনা। আট/দশ জন যাদেরকে বন্ধু বলে মানি, তারা বেজায় ব্যস্ত। অনেকের সাথে ছুটির দিনে মেলেনা। কেউবা জিআরই করে, কেউ ফ্রিল্যান্সিং, কারো জবে অনেক প্রেশার। আমার সাথে কেউ নাই। এক কলিগ কাম ফ্রেন্ডকে বললাম, “চল শুক্রবারে দূরে কোথাও বেড়ায় আসি।” সে বলে, “আমার খেয়েদেয়ে অনেক কাজ আছে। ছুটির দিনে আমি বাজার করি।”
আমি ভাবতে থাকি আর সমাধান খুঁজি। কি করা যায়? যেই কাজটা ভাল পারি সেটা প্রথম মাথায় আসে। টিউশনি করা যায়। খুচরা পয়সা আসলো, সাথে সুন্দর মতন টাইম পাস। এখন টিউশনি কই পাই! দুয়েকটা জুনিয়রেরে বলতেই চোখ মুখ শক্ত করে এমন ভাব করে যে কথা অন্যদিকে নিয়া যাই। থাক, পোলাপানের সুখের দিনে বাগড়া না বাজানো ভাল।
ফ্রিল্যান্সিং করা যায়। এর আগে একটা ল্যাপটপ কিনতে হবে। এক ঘন্টা পরপর বিদ্যুত বিভ্রাটে ডেস্কটপ দিয়ে অন্তত কোডিং করা যায় না। এখন হাতে পয়সাকড়ি জমে নাই। সুতরাং এই চিন্তা আরো কিছুদিন পরে এপ্লাই করা যেতে পারে।
থিংকিং করতে করতে মাথা ধরে যায়। একদিকে ভ্যাপসা গরম আরেকদিকে মশার কামড়। ধুরো ছুটির দিনে আমি ঘুরাঘুরি করবো। যেদিক খুশী সেদিক। একলা একলাই ঘুরবো। যা থাকে কপালে। বাসে করে কোন এক জায়গায় গিয়ে নামবো। তারপর হাঁটতে থাকবো। সাথে থাকবে বাদাম আর বিগ সাইজের চকোলেট। এক শুভাকাঙ্খী আমার ক্রমাগত ওজন হ্রাস ঠেকাতে এই চকোলেট পরামর্শ দিয়েছেন। মাঝে মধ্যে মুভি দেখবো সিনেমাহলে। সেই নটরডেম লাইফের মধুমিতা, বুয়েট লাইফের বলাকা আর এই জমানার সিনেপ্লেক্স। তিনটাতে যাবো। সঙ্গী না পেলে একাই না হয় দেখলাম, কী আছে জীবনে!
সমাধান পেয়ে বেশ উত্তেজিত লাগে। কবে আসবে নেক্সট উইকেন্ড। ভ্রমন প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেখি আমার সেই দিন আর নাই। ড্রয়ার ভর্তি সব ফর্মাল শার্ট-প্যান্ট। অনেক খুঁজে যেসব বুয়েট গেঞ্জি – টিউশনি জিন্স পাই, বড় মলিন। এইজন্যে আজকে এই গোঁধূলিবেলায় কেনাকাটা করতে বের হওয়া। টুকটাক শপিং শেষে বেইলিরোডের মোড়ে নিজেকে আবিষ্কার করি। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। চারিদিকে উদ্ভাসিত জোছনা।
এবার খাওয়া-দাওয়ার পালা। কেএফসি-বিএফসি, বুমারস-আলবাইক, বাতাসে ফ্রায়েড চিকেনের মৌ মৌ গন্ধ পাই। ভার্সিটি ছাড়ার পরে এসব জায়গায় পারতপক্ষে আসি না। একা খুব আনইজি লাগে। নিজের কাছে খালি মনে হয়, আশপাশের সবাই ভাবছে, এই যুবক একলা কেন? ঐদিন রাতে সিদ্ধান্তে আসলাম, ডোন্ট কেয়ার করতে হবে। কয়েকদিন আনইজি লাগবে, পরে অভ্যাস হয়ে যাবে। ফেইসবুকে এক বড়ভাই একটা কমেন্ট করেছিল, “পেট ভরে খাও,তারপর সামান্য আরো একটু খাও। এরপরও মৃদু খাও। এরপর দেখবা খারাপ লাগা মাথা থেকে পেটে এসে হাজির হবে। খাওয়া দাওয়া করলে বেশির ভাগ সময় ইনস্ট্যান্ট মন ভালো হয়ে যায় বা খারাপ লাগাটা ঠিক হয়ে যায়।” কথাটা খুব মনে ধরেছে। আজকে এটার এপ্লাই করে দেখি।
বিএফসিতে ঢুকি। পুরা সরগরম। ফাঁকা জায়গা নাই বললে চলে। পরী আর রাজকন্যাদের সাথে বিচ্ছিরি সব ছেলেপেলে। আমার রাগ লাগে। জুটি সেইম সেইম না হলে মারাত্মক মেজাজ খারাপ হয়। কিউতে আমার ঠিক পিছনে এক সুন্দরী। তার সাথে কাউকে দেখি না। এমন কি হতে পারে, তার বয়ফ্রেন্ড বসে আছে। আর সে আসছে অর্ডার দিতে। আজকাল হয়ত মেয়েরা শুধু ট্রিট নেয় না, ট্রিট দেয়ও। আমি অর্ডার দেয়ার পরে কানপেতে শুনি, আমাদের দুজনের অর্ডার সেইম। উনিও আমার মতন অর্ডার দিয়েছেন ১ পেপসি। তার মানে কি সে একলা?!
দুজনের একটা টেবিলে বসে তার দিকে নজর রাখি। সে গিয়ে বসে আরেকপ্রান্তে দুজনের আরেক টেবিলে। এক যোগ এক দুটো সিট নষ্ট হলো। খানিকক্ষন পরে আরো অনেক মানুষ আসে। জায়গা না পেয়ে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থাকে। আমরা দুজন ভারসাম্য রক্ষা করতে এগিয়ে আসি না। খাবার আসলে আমি আস্তে আস্তে ভুলে যাই –একাকী সুন্দরীর কথা, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নতুন বিবাহিত জুটির কথা, মোবাইলের দিকে মাথা নিচু করে অপেক্ষায় থাকা মিষ্টি মেয়েটির কথা। সব ভুলে যাই।
রিকশায় উঠে খুব ফ্রেশ লাগে। বড় বড় এপার্টমেন্টের সাথে লুকোচুরি খেলা মস্তবড় চাঁদ আর রাতের তারাদের দেখে মনে ভাব জাগে। একটু জোরেই গান ধরি। চারটা লাইন মাত্র পারি।
আমার রাত জাগা তারা
তোমার আকাশ ছোঁয়া বাড়ি
আমি পাই না ছুঁতে তোমায়
আমার একলা লাগে ভারী।
জোছনা ধোঁয়া দিনরাত্রি
রকমারী :
আমার ডায়েরী
বাড়ির পিছনে সবাই মিলে ডাব খাওয়ার জটলা আমি দারুন উপভোগ করি। মামুন ভাই গাছে চড়তে বেশ দক্ষ। এমনিতে ডাব পেড়ে আনার লোক থাকলেও সে এই কাজটা নিজের শখে করে। আমরা সবাই তৃষ্ণার্ত নয়নে অপেক্ষায়। একটা একটা করে ডাব পড়ে আর “এইটা আমার” “এইটা আমার” বলে ছেলেমেয়েদের ছুটোছুটি। ছোট ফুপ্পি আসে ডাব কেটে দিতে। সুমিষ্ট পানীয় আর সেটার থেকে বেশী আকর্ষণীয় ডাবের শাস খাওয়ার ধুম লেগে যায়।
বেলা বাড়লে ছোট চাচা জাল কাঁধে বড় পুকুরের দিকে হাঁটা শুরু করেন। আমরা ছেলের দল, পিচ্চিরা সবাই তার পিছু পিছু। জাল নিয়ে খেলা দেখাতে ছোট চাচার সাথে সাথে যায়েদ ও বিশেষ দক্ষ। মামুন ভাই এই কাজে পারদর্শী না, কিন্তু যায়েদের কাছ থেকে তার শেখার বিশেষ আগ্রহ। বড় বড় মাছ ধরা দেখা অনেক মজার ব্যাপার। আমি মনোযোগ দিয়ে সেটা উপভোগ করি। এই পুকুর সেই পুকুরে জাল ফেলে যখন মন ভরার মতন মাছ জোটে তখন আমরা বাড়ীর পথ ধরি। বড় সাইজের তাজা চিংড়ীগুলোকে দেখে আমার প্রেম প্রেম লাগে।
বাড়ী ফিরে দেখা যায় মেয়েদের দল লবন-মরিচের আসর বসিয়েছে। কাঁচা-পাকা বরই, ডাসা পেয়ারা, জলপাই আর কামরাঙ্গার আসরে ঝাপিয়ে পড়তে আমার কখনোই আপত্তি ছিল না। টক-ঝাল খেতে খেতে চোখে পানি চলে আসার পরে আমরা ক্ষান্ত দেই আর চলে দুপুরের ভুড়ি ভোজের প্রস্তুতি। আমরা বেড়াতে আসলে দাদী রসুই ঘরে না এসে পারেন না। তার নেতৃত্বে চাচীরা আর ফুফুরা মিলে চলতে থাকে রন্ধনশৈলী। অপূর্ব সুবাসে ক্ষিধে মাথায় উঠার ঠিক আগে সবাই পুকুরে ঝাপিয়ে পড়ে গোসল সারি।
রুটি-পিঠা আমার সবথেকে প্রিয় খাবার। বড় ফুপির বানানো রুটিগুলো এত মোলায়েম হয় যেন মাখন, আর দাদীর হাতের হাঁসের ঝোল এক কথায় অপূর্ব। পাল্লা দেয়ার ব্যাপারটা আমাদের সব ভাইয়ের মাথায় থাকে। কিন্তু খাওয়ার উত্তেজনায় কেউ কখনো হিসেব ঠিক রাখতে পারিনা। অমীমাংসিতভাবে শেষ হয় আহার পর্ব তৃপ্তির ঢেকুর তুলে।
তারপর সেই কাঠের সিড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে গড়াগড়ি। ঘুম চলে আসার আগে আগে আমরা চলে যাই বাড়ীর উঠোনে। শুরু হয় ক্যারাম আর ব্যাডমিন্টন উৎসব। জোড়ায় জোড়ায় লড়াই চলে সেইরকম। বাঁশবাগানের ফাঁক দিয়ে সূর্যিমামার আলো আস্তে করে কমে আসে। ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে আর একটু পরে উথাল পাথাল জোছনা।
এমন অপার্থিব সাঁঝবেলায়, আমরা জমাট বেঁধে বসি শান-বাঁধানো পুকুর ঘাটে। জল-জোছনার খেলা দেখি আর ভেসে যাই সুরের মেলায়। সামী গান ধরে কিশোর কুমার আর যায়েদ কুমার শানু। গানের কলি শুরু হয়। একে একে আমাদের সাথে যোগ দেয় নচিকেতা, অঞ্জন, এন্ড্রু কিশোর, আইয়ুব বাচ্চু এবং আরো সবাই।
সেই রাতে রাত ছিল পূর্ণিমা
রং ছিল ফাল্গূনী হাওয়াতে
সব ভাল লাগছিল চন্দ্রিমা
খুব কাছে তোমাকে পাওয়াতে
রাত বাড়ে। ভুত-প্রেত নেমে আসার আগে আমরা জোছনা ধোঁয়া উঠোনকে একা রেখে বাড়ীতে ঢুকে যাই। আমাদের দোতলা দাদাবাড়ীর উপরতলা তখন পুরো সরগরম। জোড়ায় জোড়ায় লুডু কিংবা সাপ-লুডু চলছে এখানে সেখানে। গায়ে লেপ জড়িয়ে চান্স পেলে খেলে ফেলি দু’এক দান। সাপের দংশনে ক্ষত-বিক্ষত একেক জন হরেক রকমের মাছভাজা দিয়ে রাতের আহার সারি।
এত বড় বাড়ীটায় আমরা সবাই আসলে পুরো ভরে যায়। শীতের রাতে লেপ নিয়ে কাড়াকাড়ি। যায়েদ শুরু করে সত্যি ভুতের ভয়ংকর সব কাহিনী। সেগুলো শুনে সবার খুব ঘুম পেয়ে যায়। কে কখন ঘুমিয়ে যাই কেউ জানে না।
স্বপ্নে স্বপ্নে এখনো মাঝে মাঝে আমি সেই সব দিনরাত্রির খুব কাছে পৌঁছে যাই। জানি দিনগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না। আমরা সবাই একসাথে একত্রিত হতে পারব না। তারপরেও আসছে শীতে বাড়ী যাব, ভাবতেই মন অদ্ভুত আনন্দে ভরে উঠছে। বাড়ী যাব আমার বাড়ী।
[৭-১২-২০১০]
বেলা বাড়লে ছোট চাচা জাল কাঁধে বড় পুকুরের দিকে হাঁটা শুরু করেন। আমরা ছেলের দল, পিচ্চিরা সবাই তার পিছু পিছু। জাল নিয়ে খেলা দেখাতে ছোট চাচার সাথে সাথে যায়েদ ও বিশেষ দক্ষ। মামুন ভাই এই কাজে পারদর্শী না, কিন্তু যায়েদের কাছ থেকে তার শেখার বিশেষ আগ্রহ। বড় বড় মাছ ধরা দেখা অনেক মজার ব্যাপার। আমি মনোযোগ দিয়ে সেটা উপভোগ করি। এই পুকুর সেই পুকুরে জাল ফেলে যখন মন ভরার মতন মাছ জোটে তখন আমরা বাড়ীর পথ ধরি। বড় সাইজের তাজা চিংড়ীগুলোকে দেখে আমার প্রেম প্রেম লাগে।
বাড়ী ফিরে দেখা যায় মেয়েদের দল লবন-মরিচের আসর বসিয়েছে। কাঁচা-পাকা বরই, ডাসা পেয়ারা, জলপাই আর কামরাঙ্গার আসরে ঝাপিয়ে পড়তে আমার কখনোই আপত্তি ছিল না। টক-ঝাল খেতে খেতে চোখে পানি চলে আসার পরে আমরা ক্ষান্ত দেই আর চলে দুপুরের ভুড়ি ভোজের প্রস্তুতি। আমরা বেড়াতে আসলে দাদী রসুই ঘরে না এসে পারেন না। তার নেতৃত্বে চাচীরা আর ফুফুরা মিলে চলতে থাকে রন্ধনশৈলী। অপূর্ব সুবাসে ক্ষিধে মাথায় উঠার ঠিক আগে সবাই পুকুরে ঝাপিয়ে পড়ে গোসল সারি।
রুটি-পিঠা আমার সবথেকে প্রিয় খাবার। বড় ফুপির বানানো রুটিগুলো এত মোলায়েম হয় যেন মাখন, আর দাদীর হাতের হাঁসের ঝোল এক কথায় অপূর্ব। পাল্লা দেয়ার ব্যাপারটা আমাদের সব ভাইয়ের মাথায় থাকে। কিন্তু খাওয়ার উত্তেজনায় কেউ কখনো হিসেব ঠিক রাখতে পারিনা। অমীমাংসিতভাবে শেষ হয় আহার পর্ব তৃপ্তির ঢেকুর তুলে।
তারপর সেই কাঠের সিড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে গড়াগড়ি। ঘুম চলে আসার আগে আগে আমরা চলে যাই বাড়ীর উঠোনে। শুরু হয় ক্যারাম আর ব্যাডমিন্টন উৎসব। জোড়ায় জোড়ায় লড়াই চলে সেইরকম। বাঁশবাগানের ফাঁক দিয়ে সূর্যিমামার আলো আস্তে করে কমে আসে। ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে আর একটু পরে উথাল পাথাল জোছনা।
এমন অপার্থিব সাঁঝবেলায়, আমরা জমাট বেঁধে বসি শান-বাঁধানো পুকুর ঘাটে। জল-জোছনার খেলা দেখি আর ভেসে যাই সুরের মেলায়। সামী গান ধরে কিশোর কুমার আর যায়েদ কুমার শানু। গানের কলি শুরু হয়। একে একে আমাদের সাথে যোগ দেয় নচিকেতা, অঞ্জন, এন্ড্রু কিশোর, আইয়ুব বাচ্চু এবং আরো সবাই।
সেই রাতে রাত ছিল পূর্ণিমা
রং ছিল ফাল্গূনী হাওয়াতে
সব ভাল লাগছিল চন্দ্রিমা
খুব কাছে তোমাকে পাওয়াতে
রাত বাড়ে। ভুত-প্রেত নেমে আসার আগে আমরা জোছনা ধোঁয়া উঠোনকে একা রেখে বাড়ীতে ঢুকে যাই। আমাদের দোতলা দাদাবাড়ীর উপরতলা তখন পুরো সরগরম। জোড়ায় জোড়ায় লুডু কিংবা সাপ-লুডু চলছে এখানে সেখানে। গায়ে লেপ জড়িয়ে চান্স পেলে খেলে ফেলি দু’এক দান। সাপের দংশনে ক্ষত-বিক্ষত একেক জন হরেক রকমের মাছভাজা দিয়ে রাতের আহার সারি।
এত বড় বাড়ীটায় আমরা সবাই আসলে পুরো ভরে যায়। শীতের রাতে লেপ নিয়ে কাড়াকাড়ি। যায়েদ শুরু করে সত্যি ভুতের ভয়ংকর সব কাহিনী। সেগুলো শুনে সবার খুব ঘুম পেয়ে যায়। কে কখন ঘুমিয়ে যাই কেউ জানে না।
স্বপ্নে স্বপ্নে এখনো মাঝে মাঝে আমি সেই সব দিনরাত্রির খুব কাছে পৌঁছে যাই। জানি দিনগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না। আমরা সবাই একসাথে একত্রিত হতে পারব না। তারপরেও আসছে শীতে বাড়ী যাব, ভাবতেই মন অদ্ভুত আনন্দে ভরে উঠছে। বাড়ী যাব আমার বাড়ী।
[৭-১২-২০১০]
যখন মন তোমাকে চায়
রকমারী :
আমার ডায়েরী
খুব ভোরে যখন ঘুম থেকে উঠি এত্ত খারাপ লাগে যে বলার না। দুনিয়াদারী সব বিষাদ লাগে। তারপরেও জীবন-জীবিকা আর সর্বোপরি বেঁচে থাকার তাগিদে ঘুম থেকে উঠে পড়ি। আধঘন্টার এদিক ওদিক পরে আমাকে দেখা যায় বাসের অপেক্ষায়। একটার পর একটা বাস আসে আর যায়। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি। হঠাৎ কোন অসতর্ক মুহূর্তে হারানো দিনের কথা মনে পড়ে। সেই ভোরবেলা, বুয়েট বাস, ক্যাম্পাস … … আর কারো কথা কি মনে পড়ে?
বাস পছন্দ না হলে আমার উঠতে মন চায় না। এই লাইনে দুই জাতের বাস আছে। একটা ছোট্ট খুপরি টাইপের আরেকটা মোটামোটি চলনসই মাঝারি সাইজের। মাঝারিটার অপেক্ষায় থাকি। দাঁড়ানোর জায়গা থাকলে উঠে পড়ি আল্লাহর নামে। আল্লাহ একটা সিট যেন তাড়াতাড়ি পাই, দেড়ঘন্টা দাঁড়ায়া থাকতে চাই না। যখন সিট পেয়ে যাই আরামসে কানে গান গুঁজে দেই। ফুয়াদ-মিলা-হাবীব-ন্যান্সি পাঁচমিশালী রঙ বেরঙের গান। চোখ থেকে ঘুম তাড়ানো আর সারাদিনের জন্য নিজেকে চার্জআপ করার অব্যর্থ প্রয়াস। কথাবান্ধবীদের মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনে ভাবি, কি দরকার প্রেমিকার? এরা তো আছেই। যখন চাই কাছে পাই।
মাঝে মধ্যে সুখ সয় না। বাসে উঠে আমি যে কাজটা করি, লোকজনকে ঠেলেমেলে যেভাবে পারি লেডিস সিট থেকে একশহাত নিরাপদ দূরত্বে বাসের পিছনদিকে সরে যাই। প্রথম তিনসারি ভাল কথা পারতপক্ষে পাঁচ সারির মধ্যে বসি না, সিট ছেড়ে আবার দাঁড়ানোর কষ্ট সীমাহীন। তবু দূর্ঘটনা ঘটে। যেমন একদিন বসে আছি পেছনের দিকের একটা সিটে। পিছনের দরজা দিয়ে উঠলেন এক মহিলা, সাথে চার-পাঁচ বছরের একটা বাচ্চা। আশপাশের এত মানুষজন বাদ দিয়ে তার চোখ পড়লো আমার উপর, “এই ছেলে আমার পুলাটারে কোলে নাও।” অবস্থা বেগতিক। আমি সুন্দরভাবে সিট ছেড়ে দিয়ে বলি, “না, ঠিক আছে আন্টি। আপনেই কোলে নিয়ে বসেন।”
রিকশায় যেতে যেতে দুপাশের প্রাসাদ অট্টালিকাগুলো দুচোখ ভরে দেখি। যতবার দেখি ততবারই ভাল লাগে। সকালের ফুরফুরে আবোহাওয়ায় দালানের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে সময় কেটে যায়। আমার অফিস এখন পর্যন্ত নারী বর্জিত। যতক্ষন অফিস থাকি কাজ নিয়ে থাকি, ফাউ আলাপ বা ভাব দেখানোর সুযোগ নাই। কি আছে আর জীবনে। শুধু ধুমায়া কোডিং, বাকী সব ধুঁয়া ধুঁয়া।
সময় কোথা দিয়ে যায় টের পাই না। সন্ধ্যায় আবার সেই দীর্ঘ বাসজার্নি। ক্লান্ত অবসন্ন এই আমি ঢুলতে ঢুলতে একসময় গন্তব্যে নামি। তারপর ছোট্ট একটু পথ। হাঁটতে থাকি আর সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পরে প্রথমবারের মত নিজেকে কেন যেন ভীষনরকম একা মনে হতে থাকে - একা বিষণ্ণ।
কেন এই নিঃসঙ্গতা কেন এই মৌনতা
কেন এই নিঃসঙ্গতা কেন এই মৌনতা
আমাকে ঘিরে
কেউ না জানুক কার কারনে
কেউ না জানুক কার স্মরণে
মন পিছু টানে
তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে
---------------------------------------------------
---------------------------------------------------
বাস পছন্দ না হলে আমার উঠতে মন চায় না। এই লাইনে দুই জাতের বাস আছে। একটা ছোট্ট খুপরি টাইপের আরেকটা মোটামোটি চলনসই মাঝারি সাইজের। মাঝারিটার অপেক্ষায় থাকি। দাঁড়ানোর জায়গা থাকলে উঠে পড়ি আল্লাহর নামে। আল্লাহ একটা সিট যেন তাড়াতাড়ি পাই, দেড়ঘন্টা দাঁড়ায়া থাকতে চাই না। যখন সিট পেয়ে যাই আরামসে কানে গান গুঁজে দেই। ফুয়াদ-মিলা-হাবীব-ন্যান্সি পাঁচমিশালী রঙ বেরঙের গান। চোখ থেকে ঘুম তাড়ানো আর সারাদিনের জন্য নিজেকে চার্জআপ করার অব্যর্থ প্রয়াস। কথাবান্ধবীদের মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনে ভাবি, কি দরকার প্রেমিকার? এরা তো আছেই। যখন চাই কাছে পাই।
মাঝে মধ্যে সুখ সয় না। বাসে উঠে আমি যে কাজটা করি, লোকজনকে ঠেলেমেলে যেভাবে পারি লেডিস সিট থেকে একশহাত নিরাপদ দূরত্বে বাসের পিছনদিকে সরে যাই। প্রথম তিনসারি ভাল কথা পারতপক্ষে পাঁচ সারির মধ্যে বসি না, সিট ছেড়ে আবার দাঁড়ানোর কষ্ট সীমাহীন। তবু দূর্ঘটনা ঘটে। যেমন একদিন বসে আছি পেছনের দিকের একটা সিটে। পিছনের দরজা দিয়ে উঠলেন এক মহিলা, সাথে চার-পাঁচ বছরের একটা বাচ্চা। আশপাশের এত মানুষজন বাদ দিয়ে তার চোখ পড়লো আমার উপর, “এই ছেলে আমার পুলাটারে কোলে নাও।” অবস্থা বেগতিক। আমি সুন্দরভাবে সিট ছেড়ে দিয়ে বলি, “না, ঠিক আছে আন্টি। আপনেই কোলে নিয়ে বসেন।”
রিকশায় যেতে যেতে দুপাশের প্রাসাদ অট্টালিকাগুলো দুচোখ ভরে দেখি। যতবার দেখি ততবারই ভাল লাগে। সকালের ফুরফুরে আবোহাওয়ায় দালানের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে সময় কেটে যায়। আমার অফিস এখন পর্যন্ত নারী বর্জিত। যতক্ষন অফিস থাকি কাজ নিয়ে থাকি, ফাউ আলাপ বা ভাব দেখানোর সুযোগ নাই। কি আছে আর জীবনে। শুধু ধুমায়া কোডিং, বাকী সব ধুঁয়া ধুঁয়া।
সময় কোথা দিয়ে যায় টের পাই না। সন্ধ্যায় আবার সেই দীর্ঘ বাসজার্নি। ক্লান্ত অবসন্ন এই আমি ঢুলতে ঢুলতে একসময় গন্তব্যে নামি। তারপর ছোট্ট একটু পথ। হাঁটতে থাকি আর সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পরে প্রথমবারের মত নিজেকে কেন যেন ভীষনরকম একা মনে হতে থাকে - একা বিষণ্ণ।
কেন এই নিঃসঙ্গতা কেন এই মৌনতা
কেন এই নিঃসঙ্গতা কেন এই মৌনতা
আমাকে ঘিরে
কেউ না জানুক কার কারনে
কেউ না জানুক কার স্মরণে
মন পিছু টানে
তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে
---------------------------------------------------
---------------------------------------------------
রোমান্টিসিজম
রকমারী :
আমার ডায়েরী

মাঝে মাঝে আমাকে রোমান্টিকতায় পায়। যখন পায় তখন চারপাশটা খুব খুব বেশী সুন্দর মনে হয়। অন্যসময় যা অসহ্য লাগতো সেসময় তা মধুর মনে হয়। উদাহরন দেই। রোমান্টিকতায় পেলে আমার গান গাইতে মন চায়। বেসিকালি আমার গানের গলা অনেকটা হিমেশ রেশামিয়ার মত। নাউযুবিল্লাহ্, আল্লাহ মাফ করো। তারপরেও গান ছেড়ে গলা মিলায়া গাই কিংবা খালি গলায়। আম্মা শুনল না বাসার অন্যকেউ বিরক্ত হলো এসব কিছুই মাথায় থাকে না। আবার সেই একই গান নরমাল টাইমে জোড়ে বাজাই আর আস্তে বাজাই আমার গলা দিয়ে কোন আওয়াজ বের হয় না। শত চেষ্টা করলেও হয় না। বন্ধুদের আড্ডায় প্রায়ই এই সমস্যা হয়। দেখা গেল মিরাজ জোশের সাথে গান গাইছে, সেই সাথে গাইছে শুভ। মাহমুদ না পেরেও গাওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে। আর আমার মাথায় কোন গান আসছে না, অথবা ইচ্ছা করছে না। আবার অন্যকোন সময়ে আমরা বসে আছি সিরিয়াস বিষয় নিয়ে আলাপ হচ্ছে, কিছুক্ষন পরে একটা ভাইভা অথবা ক্লাসটেস্ট। আমি জোরে চিক্কুর দেয়া শুরু করলাম। আশপাশের দোস্তরা আজব দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলে, তুই কি পাগল হয়ে গেলি পড়ার চাপে? আসলে ঘটনা উলটো। তখন আমাকে পেয়েছে রোমান্টিকতায়।
রোমান্টিসিজম ভর করলে আমি আরো একটা উদ্ভট কর্ম করি। করি না বলে করতাম বলা ভাল, পাস্ট টেন্স। এখন অনার্স পাশ যুবক এই কাজ করলে নির্ঘাত বাসা বাড়ি ছাড়তে হতে পারে। বছর দুই বা তারও আগে আমি শরীরচর্চা করতাম আমার রুমের দরজা আটকে জোরে ডিজেটাইপ গান ছেড়ে। শরীরচর্চা তথা জগিং এর নামে আমি ধুমসে লাফালাফি করতাম। বাসার মানুষ ভাবত ছেলে ব্যায়াম করে। ব্যায়াম ভালই হতো, সেইসাথে নাচানাচি। হিন্দী ছবিতে এখন আর মন লাগে না, সময় পাই না। তখন কিন্তু দেখতাম। আমি ঋত্বিক্ব এর বিরাট পাংখা। সেসময় কোয়ি মিল গায়া, ধুম-২, কৃষ এসব ছবিতে সবচেয়ে যে উড়াধুড়া গানটা থাকতো সেটা ছেড়ে সেটার অনুকরনে লাফালাফি করতাম। কোয়ি মিল গায়ার কথা এখনো মনে পড়ে। আমি মধুমিতা হলে গিয়ে এই সিনেমা দেখেছি। সিনেমাহলে আমার প্রথম দেখা হিন্দী সিনেমা এটা। ইধার চালা মে উধার চালা কিংবা হাইলা হাইলা ছুয়া ছুয়া এসব গানের তালে কত যে লাফাইসি।
রোমান্টিকতায় পেলে মাথায় লেখা আসে। হাবিজাবি লিখতে ইচ্ছা করে। অন্যসময় হাজার চেষ্টা করে, প্রিপারেশন নিয়ে ও দু-চারলাইনের বেশী লিখতে পারি না। আজকাল আমার রোমান্টিসিজম হারিয়ে যাচ্ছে, তাই আর লেখাও আসে না। আমার লেখা অবশ্য ঘুরেফিরে একইরকম, নারী-প্রেম এগুলো চলে আসে। এই নিয়ে বন্ধুমহলে হাসাহাসি কম হয় না। আমার এক বিশিষ্ট লেখক বন্ধু বলে, তুই ভাল কোন লেখা দে। কিন্তু আমার মাথায় কিছু নাই, খালি রোমান্টিসিজম। আসলে খুব বেশী নারীহীনতা মনে হয় আমার এই দুরাবস্থার কারন।
দক্ষিনমুখী একটা বারান্দা আছে আমার। রাতে যখন কোন কাজ থাকে না তখন ঐখানে বসি। হেডফোনে গান শুনতে শুনতে অনেকটা সময় কাটে। মাঝে মধ্যে এফ এম শুনি, অন্যরকম স্বাদ পাওয়া যায়। ঢাকা শহরের জন্য অদ্ভুত হলেও সত্যি সামনের পাঁচতলা বিল্ডিং বেশ খানিকটা দূরে। উন্মুক্ত আকাশ দেখা যায়, সেই সাথে রূপসী চাঁদ। সময় একদম খারাপ কাটে না।
আরেকটা কাজ করি, গান শুনে শুনে গানের লিরিক্স লেখি। ব্লগে আসার অনেক আগে থেকে এই অভ্যেস। তখন বাংলা লিখতে পারতাম না, ইংলিশে বাংলা গান টাইপ করতাম। আর তার নিচে কাউকে ডেডিকেট করে আবেগঘন প্রেমময় কথাবার্তা। ব্লগে আসার পর লিরিক্স এখানেই লিখি, ডেডিকেট আর করা হয় না।
রোমান্টিকতায় পেলে মাথায় লেখা আসে। হাবিজাবি লিখতে ইচ্ছা করে। অন্যসময় হাজার চেষ্টা করে, প্রিপারেশন নিয়ে ও দু-চারলাইনের বেশী লিখতে পারি না। আজকাল আমার রোমান্টিসিজম হারিয়ে যাচ্ছে, তাই আর লেখাও আসে না। আমার লেখা অবশ্য ঘুরেফিরে একইরকম, নারী-প্রেম এগুলো চলে আসে। এই নিয়ে বন্ধুমহলে হাসাহাসি কম হয় না। আমার এক বিশিষ্ট লেখক বন্ধু বলে, তুই ভাল কোন লেখা দে। কিন্তু আমার মাথায় কিছু নাই, খালি রোমান্টিসিজম। আসলে খুব বেশী নারীহীনতা মনে হয় আমার এই দুরাবস্থার কারন।
দক্ষিনমুখী একটা বারান্দা আছে আমার। রাতে যখন কোন কাজ থাকে না তখন ঐখানে বসি। হেডফোনে গান শুনতে শুনতে অনেকটা সময় কাটে। মাঝে মধ্যে এফ এম শুনি, অন্যরকম স্বাদ পাওয়া যায়। ঢাকা শহরের জন্য অদ্ভুত হলেও সত্যি সামনের পাঁচতলা বিল্ডিং বেশ খানিকটা দূরে। উন্মুক্ত আকাশ দেখা যায়, সেই সাথে রূপসী চাঁদ। সময় একদম খারাপ কাটে না।
আরেকটা কাজ করি, গান শুনে শুনে গানের লিরিক্স লেখি। ব্লগে আসার অনেক আগে থেকে এই অভ্যেস। তখন বাংলা লিখতে পারতাম না, ইংলিশে বাংলা গান টাইপ করতাম। আর তার নিচে কাউকে ডেডিকেট করে আবেগঘন প্রেমময় কথাবার্তা। ব্লগে আসার পর লিরিক্স এখানেই লিখি, ডেডিকেট আর করা হয় না।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
